সূচনা
ক্রয় ব্যবসায়ের একটি অপরিহার্য কাজ । যা বার বার ঘটে । যে সকল লেনদেনগুলো বার বার সংগঠিত হয় সেগুলোকে হিসাবভুক্ত করার জন্য বিশেষ জাবেদা ব্যবহার করা হয় । ক্রয় যেহেতু বার বার ঘটে তাই সকল ক্রয় লিপিবদ্ধ করার জন্য ক্রয় জাবেদা ব্যবহার করা হয়।
ক্রয় জাবেদা কাকে বলে?
যে জাবেদায় সকল বাকিতে / ধারে ক্রয় হিসাবভুক্ত করা হয় তাকে ক্রয় জাবেদা বলে ।
তাহলে নগদে ক্রয় যায় কোথায়? :- নগদে ক্রয় আরেকটি বিশেষ জাবেদায় লিপিবদ্ধ করা হয় । তা হলো নগদান বহি বা নগদ প্রদান জাবেদা। বিশেষ জাবেদা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন:- জাবেদা কাকে বলে, কত প্রকার , জাবেদার শ্রেণীবিভাগ
মনে রাতে হবে:-
ক্রয় জাবেদায় শুধু মাত্র বকিতে ক্রয় হিসাবভুক্ত হয় । নগদে ক্রয় করলে তা ক্রয় জাবেদায় অন্তরভুক্ত হবে না। নগদে ক্রয় নগদান বহি বা নগদপ্রদান জবেদায় যাবে।
আজ আমরা ক্রয় জাবেদা প্রস্তুত করা শিথবো।
ক্রয় জাবেদা কত প্রকার??
পদ্ধতিগত ভাবে ক্রয় জাবদা দুই প্রকার ।
১. একঘরা ক্রয় জাবেদা ( Single column Purchases Journal )
২. বহুঘরা ক্রয় জাবেদা ( Columnar / Multi column Parchases Journal)
আবার মজুদ সংরক্ষন পদ্ধতি অনুসারে এই দুই প্রকার জাবেদাকে ২ পদ্ধতিতে করা যায় । ১. কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি ও ২. নিত্যমজুদ পদ্ধতি । অথ্যাৎ ক্রয় জাবেদা মোট ৪ ধরনের হতে পারে :-
১. একঘরা ক্রয় জাবেদা ( কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি)
২. একঘরা ক্রয় জাবেদা ( নিত্য মজুদ পদ্ধতি)
৩. বহুঘরা ক্রয় জাবেদা ( কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি)
৪. বহুঘরা ক্রয় জাবেদা ( নিত্য মজুদ পদ্ধতি)
পরিক্ষায় যেটি আসে বা সাধারনত ক্রয় জাবেদা বলতে যেটি বুঝায় তা হলো একঘরা ক্রয় জাবেদা ( কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি) আমরা এখন এটি করার নিয়ম ধাপে ধাপে শিখবো। তারপর বাকিসকল পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ আলোচনা করবো।
ক্রয় জাবেদা প্রস্তত করার নিয়ম
একঘরা ক্রয় জাবেদা ( কালান্তিক মজুদ পদ্ধতি)

উপরিউক্ত লেনদেনসমূহ দিয়ে আমদের একটি ক্রয় জাবেদা প্রস্তুত করতে হবে। ক্রয় জাবেদা করতে হলে প্রথমেই আমাদের বাছাই করতে হবে কোন কোন লেনদেন ক্রয় জাবেদায় যাবে আর কোনটি যাবে না।
ধাপ-১: কোন লেনদেন ক্রয় জাবেদায় যায়??
শুধমাত্র বাকিতে পণ্য ক্রয় ক্রয় জাবেদায় যাবে । বাকিসব বাদ । যেমন : নগদে ক্রয় , সম্পত্তি ক্রয় , মনিহারি ক্রয় যাবে না। মানে এখানে মার্চ ২, ৫ , ২০, ৩০ তারিখের লেনদেন ক্রয় জাবদায় যাবে । এবং মার্চ ১০ ও ১৬ যাবে না । এখানে মার্চ ১৬ আসবাপত্র ক্রয় ক্রয় জাবদায় যাবে । কারণ এখানে আসবাবপত্র সম্পদ নয় ও পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে । বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যা ক্রয় করা হয়ে তাকে পন্য বলে। লেনদেন বাছাই শেষ এবার আমাদের ক্রয় জবেদার ছক কাটতে হবে।
ধাপ-২ : ক্রয় জবেদার ছক

ক্রয় জাবেদায় মোট ৬ টি ঘর । সবচেয়ে বামে তারিখ দিতে হবে । এরপর সবচেয়ে ডানের ঘরে আমরা বাকিতে ক্রয়ের জাবেদা দিবো। মানে ক্রয় হিসাব ডে. – পাওনাদার ক্রেডিট । এখানে যেহেতু ক্রয় ডে. তাই তারিখের পর বিপরীত মানে ক্রেডিট হিসাব খাত হবে । তারপর আরো ৩ টি ঘর শর্ত , চালান নং , সূত্র দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শুধু ক্রয় জাবেদায়ই শর্তের ঘর হয়। উপরে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম তারপর ক্রয় জবেদা শিরোনাম দিতে হবে। ছক শেষে আমাদের একে একে বকিতে ক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন গুলো ক্রয় জাবেদায় এন্ট্রি করতে হবে।
ধাপ -৩ : ক্রয় জবেদার গনণা ও এন্ট্রি

মার্চ – ১ : এখানে নাম আছে তাই হিসাব খাতে আমরা ঐ নাম মানে সজিব ট্রেডার্স লিখবো । এর পর শর্ত , চালান নং , সূত্র যা দেওয়া আছে দিবো না থাকলে ঐ ঘর ফাকা রাখবো । তারপর ক্যলকুলেশন করতে হবে। মোট দাম থেকে বাট্টা বাদ দিতে হবে এবং কোন অনুষাঙ্গিক খরচ থাকলে তা যোগ করতে হবে।
ক্রয় জাবেদার গণনাকার্য বা হিসাব:-
এখানে , মোট দাম ৫০ টাকা দরে ৫০০ কেজি মানে (৫০×৫০০) =২৫,০০০ টাকা । ২৫০০০ টাকা হতে এর বাট্ট (ডিসকাউন্ট) ২৫,০০০ × ৫৳ = ১২৫০ টাকা বিয়োগ করলে হয় ২৩,৭৫০ । তার সাথে বহন খরচ ৫০০ যোগ করলে আসে ২৪,২৫০ যা আমরা টাকার ঘরে লিখবো ।
আমরা শর্টকার্টে করতে পারি ,
নিট মূল্য = মোট মূল্য ( ১ – বাট্টা হার ) + আনুষাঙ্গিক খরচ ।
আর্থাৎ – ৫০×৫০০(১-৫%)+৫০০ =২৪,২৫০ টাকা।
আনুষাঙ্গিক খরচ কাকে বলে?
ক্রয় ও বিক্রয় করার সময় এক্সট্রা বা বাড়তি যে খরচ হয় তাকে আনুষাঙ্গিক খরচ বলে । যেমন : বহন খরচ , প্যাকিং খরচ , ডেলিভারি খরচ ইত্যাদি।
মার্চ- ৫: নাম আছে তাই তাই সেটি আমরা ক্রেডিট হিসাব খাতে দিবো।( রহিম ট্রেডার্স। চালান নং রয়েছে শুধু তাই সেটি দিয়ে বাকি দুই ঘর ফাকা। টাকা গননা গননা করে ৬০,০০০(১-১০%)+৬০০ = ৫৪,৬০০ লিখবো। মোট দাম সরাসরি দেওয়া তাই আর গুন করতে হবে না।
মার্চ-১০ : যাবে না কারণ এটি নগদে ক্রয় । এক ঘরা ক্রয় জাবেদায় শুধূ মাত্র বাকিতে ক্রয় অন্তর্ভূক্ত হয়।
মার্চ-১৬ : যাবে না । যদি এটি ধারে ক্রয় তাও যাবে না কারণ এখনে পণ্য ক্রয় করা হয় নি ।সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে। একঘরা ক্রয়-বিক্রয় জাবেদায় শুধু মাত্র পণ্য ক্রয়-বিক্রয় যায়। ( বহুঘরা ক্রয় জাবেদায় পণ্য ছাড়াও অন্য সকল ক্রয় যায়)।
মার্চ -২০ : এখানে আসবাবপত্র একটি পণ্য কারণ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়েছে। তাই এটি ক্রয় জাবেদায় যাবে । এখানে বাট্টা বা খরচ কিছু নেই মানে গণনা করার কিছু নেই তাই সরাসরি ৩০,০০০ হবে। কোন নাম নেই তাই প্রদেয় হিসাব হবে।
**নাম না থাকলে ক্রয় জাবেদায় প্রদেয় বা পাওনাদার হিসাব হবে।
মার্চ- ৩০: নিজে বুঝো।
সব এন্ট্রি শেষ হলে আমরা টোটাল করে ক্লোস করে অংক শেষ করবো। আমরা ক্রয় জবেদা শিখব্
নিত্য মজুদ পদ্ধতিতে ক্রয় জাবেদা প্রস্তত করার নিয়ম

আমরা অবশ্যই বুঝে গেছি ক্রয় জাবেদায় শুধুমাত্র বাকিকে বা ধাকে ক্রয় যায়। আর নিত্যমজুদ পদ্ধতিতে বাাকিতে ক্রয় করলে জাবেদা হয়:
মজুতপণ্য হিসাব — ডেবিট
প্রদেয় / পাওনাদার হিসাব ক্রেডিট।
কালান্তিক মজুদ ও নিত্য মজুদ পদ্ধতির পার্থক্য শুধু এটুকুই ক্রয় হিসাবের স্থলে মজুদপন্য হিসাব হবে।
কিভাবে বুঝবো যে নিত্য মজুদ পদ্ধতে উত্তর দিতে হবে?
প্রশ্নে উল্লেখ থাকবে যে নিত্য মজুদ পদ্ধতিতে ক্রয় জাবেদা প্রস্তুত করো । অথবা বিক্রয় ও বিক্রয় ফেরতের পাশে ক্রয়মূল্য দেওয়া থাকবে যেমন : এখানে মার্চ ২৫ তারিখের লেনদেন। এ দুটির যেকোন একটি দেখলেই আমরা বুঝতে পারবো প্রশ্নে নিত্য মজুত পদ্ধতিতে ক্রয় জাবেদা করতে বলছে।
নিত্য মজুদ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন :- মজুদ হিসাব সংরক্ষন পদ্ধতি : কালান্তিক ও নিত্য মজুদ পদ্ধতি কি, জাবেদাসহ বিস্তারিত
বহুঘরা ক্রয় জাবেদা করার নিয়ম
উপরের আলোচনা থেকে আমরা দেখেছি এক ঘরা ক্রয় জাবেদায় শুধু বাকিতে পণ্য ক্রয় অন্তর্ভূক্ত হয় । কিন্তু বহুঘরা ক্রয় জাবেদায় পণ্য ক্রয় ছাড়াও অন্যান্য ধারে কয় অন্তর্ভূক্ত হবে ।
বহুঘরা ক্রয় জাবেদায় কি কি অন্তর্ভূকাত হবে??
বহুঘরা ক্রয় জাবেদা ধারে ক্রয়কৃত সকল পণ্য ও সম্পদ অন্তভূক্ত হবে । যেমন:-
১. পণ্য ক্রয়
২. সাপ্লাইজ ক্রয় ( ঘরি , ক্যাকুলেটর , পেপারওয়েট etc. )
৩. সম্পদ ক্রয় ( আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি , অফিস সরঞ্জাম ইত্যাদি)
**নগদে ক্রয় হলে এগুলোর কোনটাই যাবে না।

বহুঘরা ক্রয় জাবেদাক ছক
বহুঘরা ক্রয় জাবেদার ছক একঘরা জাবেদায় মতোই শুধু টাকার ঘর আলাদা । এখানে টাকার ঘর হবে চারটি । প্রদেয় বা পাওনাদার ক্রেডিট তারপর –
পন্য ক্রয়ের জন্য = ক্রয় হিসাব ডেবিট ।
অফিস সাপ্লাইজ ক্রয়ের জন্য জন্য = সাপ্লাইজ ডেবিট ।
অন্যান্য সকল বাকিতে ক্রয়ের জন্য অন্যান্য ডেবিট।
ব্যাখ্যা:-
মার্চ -৫ : সাপ্লাইজ ক্রয় তাই টাকা প্রদেয় ও সাপ্লাইজের ঘরে।
মার্চ-১০ : ফ্রিজ কারেন্টে চলে মানে এটি অফিস সরঞ্জাম । তাই টাকা প্রদেয় ও অন্যান্যে এর ঘরে।
মার্চ – ১৫ : পন্য ক্রয় তাই ক্রয় ও প্রদেয় -েএর ঘরে টাকা।
মার্চ -২০ : মেশিন হিসাব অন্যান্য ও প্রদেয় – এর ঘরে যাবে।
** পণ্য ও সাপ্লাইজ ছাড়া বাকি সকল ধারে ক্রয় অন্যান্য এর ঘরে যাবে।
নিত্য মজুদ পদ্ধতিতে বহুঘরা ক্রয় জাবেদা প্রস্তত করার নিয়ম

নিত্য মজুদ পদ্ধতির বহুঘরা ক্রয় জাবেদা কলান্তিক মজুদ পদ্ধতির মতোই তবে এখনে ক্রয় হিসাবের পরিবর্তে মজুদ পন্য হিসাব হবে। কারন নিত্য মজুদ পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয়ের জাবেদা মজুদ পণ্য হিসাব ডেবিট হয় ।
MCQ
নিচের কোনটি বহুঘরা ক্রয় জাবেদায় অন্তর্ভুক্ত হয় না?
ক্রয় জাবেদা কাকে বলে?
নিচের কোনটি আনুষাঙ্গিক খরচের অন্তর্গত?
[ কোন ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে বা মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ]
