জাবেদা দাখিলার সহজ নিয়ম
জাবেদা দাখিলার সহজ নিয়ম

জাবেদা দাখিলার সহজ নিয়ম , ৬টি শর্টকার্ট রুলস সকল ডেবিট-ক্রেডিট

সূচনা

হিসাববিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাবেদা বা ডেবিট-ক্রেডিট । কারণ এই ডেবিট-ক্রেডিটের উপর ভিত্তি করেই হিসাববিজ্ঞানের সকল হিসাবকার্য সম্পন্ন হয় । আমরা আজ জবেদা করার ৬টি  সহজ নিয়ম বা শর্টকার্ট শিখবো । এই ৬টি নিয়মের মাধ্যমে সকল লেনদেনের জাবেদা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব । আজ আমরা ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ে বৈজ্ঞানিক নিয়ম আলোচনা করবো না । শুধু এইটুকু জানেলেই হবে :-

সম্পদ , ব্যয় বাড়লে ডেবিট হয়।

আয়, দায় , মালিকানাস্বত্ত্ব বাড়লে ক্রেডিট হয়।

আর এগুলো কমলে উল্টোটা হবে। ডেবিট-ক্রেডিট নির্ণয়ের বৈজ্ঞানিক নিয়ম জানতে পড়তে পারেন:- দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি কি? কাকে বলে? ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয়ের নিয়ম

নিয়ম-১: নগদ ও ব্যাংক সম্পর্কিত জাবেদা।

র-১: নগদ বাড়লে ডেবিট কমলে ক্রেডিট। বাড়া-কমার কারণই হবে বিপরীত হিসাব।

 বিস্তারিত: কোন লেনদেনে যদি নগদ  বিদ্যমান থাকে তাহলে দুটি প্রশ্নের মাধ্যমে আমরা জাবেদা করতে পারি।

১. নগদ বেড়েছে নাকি কমেছে?

২. নগদ কেন বাড়লো বা কেন কমলো?

প্রথম প্রশ্নের উত্তর বেড়েছে হলে হলে নগদান হিসাব ডেবিট এবং বাড়ার কারন ক্রডিট হবে। আবার উত্তর কমেছে হলে নগদান হিসাব ক্রেডিট এবং কমার কারন ডেবিট হবে।

কেন এমন হয়: আমরা জানি সম্পদ বাড়লে ডেবিট এবং কমলে ক্রেডিট হয়। নগদান /ব্যাংক একটি সম্পদ । তাই বাড়লে ডেবিট এবং কমলে ক্রেডিট হয়।

উদাহরণ: ভাড়া প্রদান ৫,০০০ টাকা। এখানে ,

১. নগদ বেড়েছে নাকি কমেছে?

উত্তর: ভাড়া প্রদান করার ফলে নগদ টাকা কমেছে তাই এখনে নগদান ক্রেডিট হবে।

২. নগদ কেন বাড়লো বা কেন কমলো?

উত্তর: ভাড়া প্রদানে ফলে নগদ কমেছ। আথ্যাৎ ভাড়া হিসাব ডেবিট হবে।

আরো কিছু নগদ সম্পর্কিত জাবেদা:-

ক) নগদে পন্য বিক্রয় ৬,০০০ টাকা।

নগদান হিসাব ডেবিট—-৬,০০০ টাকা

বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট—-৬,০০০ টাকা

কারণ: নগদে বিক্রয় করলে নগদ টাকা বাড়ে তাই নগদান হিসাব ডেবিট। এবং নগদ বাড়ার কারণ হলো বিক্রয় তাই বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট।

খ)পাওনাদারকে প্রদান ৪০০০ টাকা।

পাওনদার হিসাব ডেবিট—-৪,০০০ টাকা

নগদান হিসাব ক্রেডিট—-৪,০০০ টাকা

কারণ: নগদে প্রদান করলে নগদ কমে তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট । আর নগদ কমার কারণ হলো পাওনাদার তাই পাওনাদার হিসাব ডেবিট।

নিয়ম-২: ক্রয় ও বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেনের জাবেদা।

র-২: ক্রয় করলে ক্রয় হিসাব ডেবিট এবং ক্রয়ের মাধ্যমগুলো ক্রেডিট হবে। একই ভাবে বিক্রয় করলে বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট এবং বিক্রয়ের মাধ্যমগুলো ডেবিট হবে। 

বিস্তারিত: কোন লেনেদনে ক্রয় অথবা বিক্রয় থাকলে আমরা দুটি প্রশ্নের মাধ্যমে সহজেই এর ডেবিট ক্রেডিট নির্ণয় করতে পারি।

১. কি হয়েছে? ক্রয় নাকি বিক্রয়।

২.কোন কোন মাধ্যমে হয়েছে? নগদে নাকি বাকিতে নাকি চেকে।

যদি ক্রয় হয় তবে ক্রয় হিসাব ডেবিট করে মাধ্যমগুলো ক্রেডিট করতে হবে।আবার বিক্রয় করলে  বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট  হবে এবং মাধ্যমগুলো ডেবিট হবে।

কেন এমন হয়: ক্রয় একটি ব্যয় তাই ক্রয় হিসাব ডেবিট হয় এবং মাধ্যমগুলো ক্রেডিট হবে। অপরদিকে বিক্রয় হলো আয় তাই বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট হয় এবং মাধ্যমগুলো ডেডিট হবে।

উদাহরণ: পণ্য ক্রয় ১০,০০০ টাকা যার ৫,০০০ হাজার নগদে এবং ৫,০০০ চেকে প্রদান।

১. কি হয়েছে ? ক্রয় হয়েছে তাই ক্রয় হিসাব ডেবিট ।

২. কোন কোন মাধ্যমে হয়েছে? নগদ ও চেকের (ব্যাংক) মাধ্যমে হয়েছে তাই এগুলো ক্রেডিট হবে।

অথ্যাৎ:-

ক্রয় হিসাব ডেবিট—-১০,০০০ টাকা

নগদান হিসাব ক্রেডিট—- ৫,০০০ টাকা

ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট—- ৫,০০০ টাকা।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • বাকিতে বিক্রয় করলে প্রাপ্য এবং ক্রয় করলে প্রদেয় হিসাব। প্রাপ্য হিসাবকে দেনাদার এবং প্রদেয় হিসাবকে পাওনদার নামেও লিপিবদ্ধ করা যায়।
  • যদি ব্যবহার করার জিনিস বা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় হয় তবে ক্রয় বা বিক্রয় হিসাব লিখা যাবে না। ঐ সম্পত্তির নাম লিখতে হবে। যেমন: আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, মনিহারি , অফিস সাপ্লাইজ।
  • ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ থাকলে ক্রয়/বিক্রয় বাকিতে ধরতে হয় । তবে নগদ উল্লেখ করে দিলে তা নগদে ধরতে হবে। কোন কিছু না থাকলেও নগদ ধরতে হবে।

আরো কিছু নগদ সম্পর্কিত জাবেদা:-

ক.সালামের নিকট পণ্য বিক্রয় ৭০০ টাকা।

প্রপ্য হিসাব (সালাম) ডেবিট—৭০০

বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট—৭০০

নোট: বিক্রয় আয় তাই বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট । এবং বিক্রয়ের মাধ্যম হলো বাকি বা ধারে । তাই প্রাপ্য হিসাব ডেবিট। ( নাম উল্লেখ থাকলে এবং নগদে লিখা না থাকলে  ক্রয়-বিক্রয় বাকিতে ধরতে হয়।)

খ) পণ্য ক্রয় ৮০,০০০ টাকা। যার ২০,০০০ নগদ , ৩০,০০০ প্রদেয় বিলে পরিশোধ।

ক্রয় হিসাব ডেবিট—-৮০,০০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট—-২০,০০০

প্রদেয় বিল হিসাব—২৫,০০০

প্রদেয় হিসাব—-৩৫,০০০

নোট: ক্রয় ব্যয় তাই ক্রয় হিসাব ডেবিট । আর ক্রয়ের মাধ্যম হলো নগদান ও প্রদেয় বিল তাই এগুলো ক্রেডিট।এরপরও দেখা যায় ৩৫,০০০ টাকা  পরিশোধ বাকি আছে তাই প্রদেয় হিসাব ক্রেডিট হয়েছে।

গ) আসবাবপত্র ক্রয় ৫০,০০০ টাকা।

আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট—- ৫০,০০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট—৫০,০০০

নোট: আসবাবপত্র যেহেতু প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয় তাই এখানে ক্রয় হিসাব ডেবিট করা যাবে না । এখানে ডেবিট হবে আসবাবপত্র হিসাব এবং ক্রয়ের মাধ্যম হলো নগদ তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট।

 

নিয়ম-৩: মূলধন ও উত্তোলন সংক্রান্ত লেনদেনের জাবেদা

র-৩: মালিক ব্যবসায়ে কিছু দিলে মূলধন হিসাব এবং কিছু নিলে উত্তোলন হিসাব হয়। মূলধন হিসাব ক্রেডিট , উত্তোলন হিসাব ডেবিট হয় এবং যা যা দিয়েছে বা নিয়েছে তা বিপরীত হিসাব হবে।

বিস্তারিত: যদি মালিক ব্যবসায়ে কিছু প্রদান বা ব্যবসায় হতে কিছু গ্রহণ করে তবে আমরা দুটি প্রশ্নের মাধ্যমে সহজেই জাবেদা করতে পারি।

১.মালিক দিয়েছে নাকি নিয়েছে?

২. কি কি দিলো বা নিলো??

উত্তর মালিক কিছু দিয়েছে হলে মূলধন হিসাব ক্রেডিট হবে এবং যা যা দিয়েছে তা ডেবিট হবে। আবার উত্তর নিয়েছে হলে উত্তোলন হিসাব ডেবিট এবং যা যা নিয়েছে তা ক্রেডিট হবে।

কেন এমন হয়: মূলধন একটি মালিকানাস্বত্ত্ব হিসাব তাই এটি  ক্রেডিট হয় । এবং উত্তোলন হলো বিপরীত মালিকানাস্বত্ত্ব হিসাব তাই এটি ডেবিট হয়।

উদাহরণ: জামাল সাহেব তার ব্যবসায়ে ৩০,০০০ টাকা নগদ ও  ২০,০০০  টাকার আসবাপত্র বিনিয়োগ করেন:

১. মালিক দিয়েছে নাকি নিয়েছে? এখানে মালিক ব্যবসায়ে দিয়েছে তাই মূলধন হিসাব ক্রেডিট।

২. কি কি দিয়েছে? নগদ এবং আসবাপত্র তাইে এগুলো ডেবিট হবে।

নগদান হিসাব ডেবিট—-৩০,০০০

আসবাপত্র হিসাব ডেবিট — ২০,০০

মূলধন হিসাব ক্রেডিট—- ৫০,০০০ টাকা (মোট)

আরো কিছু উদাহরণ:

ক. ব্যবসায়ের অর্থ হতে মালিকের ছেলের স্কুলের বেতন প্রদান ৬০০ টাকা।

উত্তোলন হিসাব ডেবিট —- ৬০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট — ৬০০

নোট: এখানে মালিকের ছেলের স্কুলের বেতন পরিশোধ করার জন্য মালিক ব্যবসা হতে টাকা নিয়েছে । মালিক টাকা নিলে উত্তোলন হিসাব ডেবিট। এবং যা নিয়েছে তা হলো নগদ টাকা তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট। 

খ. স্ত্রীর গহণা বিক্রি করে ব্যবসায়ের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় ৬০,০০০ টাকা।

আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট — ৬০,০০০

মূলধন হিসাব ক্রেডিট —–৬০,০০০

নোট: এখানে মালিক ব্যবসায়ে আসবাবপত্র দিয়েছেন ।মালিক দিয়েছে তাই মূলধন হিসাব ক্রেডিট । কি দিয়েছে? আসবাবপত্র তাই আসবাবপত্র হিসাব ডেবিট।

গ. আয়কর প্রদান ৫০০০ টাকা।

উত্তোলন হিসাব ডেবিট —- ৫০০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট — ৫০০০

নোট: আয়কর মালিকের খরচ যা ব্যববসায়ের টাকা দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে অথ্যাৎ মালিক ব্যবসায় থেকে টাকা নিয়েছে তাই উত্তোলন হিসাব ডেবিট এবং টাকা নিয়েছে তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট।

গুরুত্বপূর্ণ: জীবন বিমা প্রিমিয়াম ও আয়কর এ দুটি মালিকের খরচ । এগলো থাকলে উত্তোলন ডেবিট হবে এবং পরিশোধের মাধ্যম ক্রেডিট হবে।

নিয়ম-৪: আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত লেনদেনের জাবেদা

র-৪: ব্যয় হিসাব ডেবিট , আয় হিসাব ক্রেডিট হবে। এবং আয়/ব্যয় পরিশোধের মাধ্যমগুলো বিপরীত হবে।

 বিস্তারিত: কোন লেনদেনে আয় অথবা ব্যয় বিদ্যমান থাকলে দুটি প্রশ্নের মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই জাবেদা করতে পারি।

১.কি হয়েছে আয় নাকি ব্যয়?

২. কিসের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে?

যদি প্রশ্নের উত্তর ব্যয় হয় তবে ব্যয় হিসাবের নামটি ডেবিট এবং পরিশোধের মাধ্যম ক্রেডিট হবে। অপরদিকে আয় হলে আয় হিসাবের নামটি ক্রডিট হবে এবং পরিশোধের মাধ্যম ডেবিট হবে। বাকি বা বকেয়া থাকলে প্রাপ্য/প্রদেয় ঐ হিসাব হবে।

গুরুত্বপূর্ণ: 

  • আয় বকেয়া বা বাকি থাকলে প্রাপ্য+ আয়ের নাম হিসাব হবে । ব্যয় বকেয়া থাকলে প্রদেয়+ ব্যয়ের নাম হবে।
  • প্রদানের বেলায় প্রদত্ত লিখার প্রয়োজন নেই। যেমন প্রদত্ত বেতন, প্রদত্ত ভাড়া না লিখে  শুধু বেতন ,ভাড়া লিখলেই হবে।
  • প্রাপ্তির বেলায় প্রাপ্ত লিখা বাধ্যতামূলক। যেমন : প্রাপ্ত বেতন , প্রাপ্য ভাড়া । শুধু বেতন ,ভাড়া লিখলে ভুল হবে।

উদাহরণ:

ক. বেতন প্রদান ৪০০০ টাকা ।

বেতন হিসাব ডেবিট— ৪০০০ টাকা।

নগদান হিসাব ক্রেডিট— ৪০০০ টাকা

নোট: বেতন প্রদান একটি ব্যয় তাই বেতন হিসাব ডেবিট এবং নগদে পরিশোধ করা হয়েছে তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট।

খ. ভাড়া প্রাপ্তি ৪০০০ টাকা। নগদে ২০০০ চেকে ২০০০টাকা।

নগদান হিসাব ডেবিট— ২০০০

ব্যাংক হিসাব ডেবিট— ২০০০

প্রাপ্ত ভাড়া হিসাব ক্রেডিট—- ৪০০০

নোট: ভাড়া প্রাপ্তি একটি আয় তাই প্রাপ্ত ভাড়া হিসাব ক্রেডিট এবং পরিশোধের মাধ্যম নগদান ও ব্যাংক তাই এদুটি হিসাব ডেবিট।

গ. মুজুরি ১০,০০০ টাকা যার ৭,০০০ টাকা নগদে প্রদান করা হয়েছে।

মুজুরি হিসাব ডেবিট — ১০,০০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট — ৭,০০০

প্রদেয় মুজুরি ক্রেডিট — ৩,০০০

নোট: মুজুরি প্রদান একটি ব্যয় তাই মুজুরি হিসাব ডেবিট। পরিশোধের মাধ্যম নগদ তাই নগদান ক্রেডিট কিন্তু আরো ৩০০০ টাকা বাকি বা বকেয়া থাকে তাই প্রদেয় মুজুরি / বকেয়া মুজুরি ক্রেডিট।

ঘ. প্রাপ্ত কমিশন বকেয়া আছে ৫০০০ টাকা।

প্রাপ্য কমিশন হিসাব ডেবিট —- ৫০০০

প্রাপ্ত কমিশন হিসাব ক্রেডিট—-৫০০০

নোট: কমিশন প্রাপ্তি আয় তাই এটি ক্রেডিট । পরিশোধ করা হয় নি বকেয়া আছে তাই প্রাপ্য কমিশন ডেবিট।

নিয়ম-৫: দেনাদার ও পাওনাদার সংক্রান্ত লেনদেনের জাবেদা

নিয়ম-২ : ক্রয় ও বিক্রয় সক্রান্ত জাবেদায় আমরা জেনেছি  পাওনাদার ও দেনাদার হিসাব কেন হয়। বাকিতে বিক্রয় করলে দেনাদার এবং বাকিতে ক্রয় করলে পাওনাদার হয় । দেনাদার ও পাওনাদারের আধুনিক নাম প্রাপ্য হিসাব ও প্রদেয় হিসাব ব্যবহার করাই ভালো। তো নিয়ম-৫ এ আমরা দেনাদার ও পাওনাদার এর টাকা পরিশোধিত হলে কি জাবেদা হয় সেটা দেখবো।

  • দেনাদার=প্রাপ্য হিসাব= আমরা টাকা পাবো = সম্পদ
  • পাওনাদার=প্রদেয় হিসাব= আমরা টাকা দিবো= দায়
  • দেনাদার সম্পদ তাই পরিশোধিত হলে সম্পদ কমে , তাই দেনাদার বা প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট হয়। পাওনাদার হলো দায় , যা পরিশোধ করলে দায় কমে তাই পরিশোধ হলে পাওনদার বা দায় ডেবিট  হয়।

র-৫: দেনাদার হতে টাকা পাওয়া গেলে প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট এবং এবং প্রাপ্তির মাধ্যমগুলো ডেবিট হবে। আবার পাওনদার কে টাকা পরিশোধ করলে প্রদেয় হিসাব ডেবিট এবং প্রদানের মাধ্যমগুলো ক্রেডিট হবে।

উদাহরণ:

ক. রহিমকে প্রদান ৩০,০০০ টাকা।

প্রদেয় (রহিম) হিসাব ডেবিট —৩০,০০০

নগদান হিসাব ক্রেডিট — ৩০,০০০

নোট: রহিমেকে টাকা দিয়েছি মানে রহিম হলো পাওনাদার । পাওনদার হলো দায় আর পরিশোধ করার ফলে দায় কমেছে  তাই প্রদেয় হিসাব ডেবিট। এবং পরিশোধের মাধ্যম হলো নগদ তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট।এটি নিয়ম- ১ দিয়েও করা যায়।

খ. দেনদারের নিকট হতে প্রাপ্তি ৪০,০০০ টাকা যার ২০০০০ নগদ ও ২০,০০০ চেকে।

নগদান ‍হিসাব ডেবিট —- ২০,০০০

ব্যাংক হিসাাব ডেবিট —- ২০,০০০

প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট —- ৪০,০০০

নোট: দেনাদার হলো সম্পদ যা পরিশোধিত হওয়ার ফলে সম্পদ কমেছে  তাই প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট এবং পরিশোধের মাধ্যম হলো নগদ ও ব্যাংক তাই এগুলো ডেবিট হয়েছে। 

পরের নিয়মে দেনাদার -পাওনদার সম্পর্কিত আরো জাবেদা শিখবো। বাট্টা জড়িত থাকায় আরো একটি রুলস হিসেবে দেওয়া হলো।

 

নিয়ম-৬: বাট্টা সংক্রান্ত লেনদেনের জাবেদা

 বাট্টা সংক্রান্ত জাবেদা নিয়ম ২ ও ৫ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। নিয়ম-৬ বুঝতে হলে আগে আমাদে বাট্টা চিনতে হবে।

বাট্টা কি?

  • বাট্টা হলো ডিসকাউন্ট বা ছাড়

বাট্ট কত প্রকার?

বাট্টা ২ প্রকার ।

১. কারবারি বা ব্যবসায়িক বাট্টা= ক্রয়-বিক্রয়ের সময় যে ছাড় দেওয়া হয়= জাবেদায় অন্তরভুক্ত হয় না,শুধু টাকা বিয়োগ হয়।

২. নগদ বাট্টা বা বাট্টা= দেনাদার বা পাওনদাদের টাকা পরিশোধের সময় যে ছার দেওয়া হয়= জাবেদায় অন্তভুক্ত হয়।

দুটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়:

১. নগদ যেখানে বাট্টা সেখানে । আথ্যাং নগদ ডেবিট হলে বাট্টা ডেবিট , আবার নগদ ক্রেডিট হলে বাট্টা ক্রেডিট ।

২. প্রাপ্তি-প্রদানের ক্ষেত্রে নগদ আর বাট্টার সম্পর্ক বিপরীতমূখি। নগদ প্রাপ্তি হলে আমরা ডিসকাউন্ট প্রদান করি তাই বাট্টা প্রদত্ত হয়। আবার নগদ প্রদান করলে আমরা ডিকাউন্ট গ্রহণ করি তাই বাট্টা প্রাপ্তি হয়।

  • নগদ  প্রদত্ত = প্রাপ্ত বাট্টা = আয় = ক্রেডিট।
  • নগদ প্রাপ্তি = প্রদত্ত বাট্টা =ব্যয় = ডেবিট ।

উদাহরণ:

ক. ১০% বাট্টায় পণ্য ক্রয় ১০,০০০ টাকা।

ক্রয় হিসাব ডেবিট— ৯,০০০ 

নগদান হিসাব ক্রেডিট —৯,০০০

নোট: ক্রয় ব্যয় তাই ক্রয় হিসাব ডেবিট। ক্রয়ের মাধ্যম হলো নগদ তাই নগদান হিসাব ক্রেডিট। ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ের বাট্টা জাবেদায় যায় না শুধু টাকা বিয়োগ হয়। তাই এখানে ১০০০০ টাকা হতে এর ১০%= ১০০০ টাকা বাদ দিয়ে ৯০০০ টাকা হয়েছে।

খ. দেনাদারের নিকট পাওনা ৮০০০ টাকা ১০% বাট্টায় প্রাপ্তি ।

নগদান হিসাব ডেবিট —- ৭,২০০

প্রদত্ত বাট্টা হিসাব ডেবিট — ৮০০

প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট — ৮,০০০

নোট: দেনাদার পরিশোধিত হওয়ার ফলে সম্পদ কমে তাই প্রাপ্য / দেনাদার হিসাব ক্রেডিট । পরিশোধের মাধ্যম হলো নগদ ও বাট্টা তাই এগুলো ক্রেডিট । নগদ প্রপ্তি হয়েছে তাই প্রদত্ত বাট্টা।

গ. সালাম ট্রেডার্সকে ৪০,০০০ টাকার পূর্ণ নিষ্পত্তিতে ৩৮,০০০ টাকা প্রদান।

প্রদেয় ( সালাম ট্রেডার্স ) হিসাব ডেবিট — ৪০,০০০ টাকা

নগদান হিসাব ক্রেডিট — ৩৮,০০০ টাকা

প্রাপ্ত বাট্টা হিসাব ক্রেডিট — ২০০০ টাকা

নোট: আমরা টাকা দিয়েছি মানে সালাম হলো প্রদেয় হিসাব বা পাওনাদার যা দায়। টাকা পরিশোধ করার ফলে দায় কমেছে তাই পাওনাদর/ প্রদেয় হিসাব ডেবিট । আর পরিশোধের মাধ্যম নগদান + বাট্টা হিসাব ক্রেডিট ।আরো ২০০০ টাকা বাকি থাকে যেহেতু পূর্ণনিষ্পত্তি হয়েছে তাই এই টাকা ডিসকাউন্ট বা বাট্টা ধরা হয়েছে। নদগ প্রদত্ত = প্রাপ্ত বাট্টা(উল্টাে)।

ঘ. ৮০,০০০ টাকার পূর্ণ নিষ্পত্তিতে দেনাদারের নিকট হতে ৪০,০০০ টাকা নগদে এবং ৩৬,০০০ টাকা চেকে প্রাপ্তি।

নগদান হিসাব ডেবিট — ৪০,০০০

ব্যাংক হিসাব ডেবিট — ৩৬,০০০

প্রদত্ত বাট্টা হিসাব ডেবিট — ৪,০০০

প্রাপ্য হিসাব ক্রেডিট —- ৮০,০০০

নোট:  দেনাদার সম্পদ পরিশোধ হলে দেনাদার কমে তাই দেনাদার হিসাব ক্রেডিট । এর পরিশোধের মাধ্যম নগদ , ব্যাংক , বাট্টা ডেবিট। নগদ ও ব্যাংকের পরেও ৪০০০ টাকা বাকি থাকে যেহেতু পূর্ণ ‍নিষ্পত্তি হয়েছে তাই এই ৪০০০ টাকা বাট্টা ধরতে হবে। নগদ প্রাপ্তি= প্রদত্ত বাট্টা(উল্টে)।

আমরা কিছু জাবদা প্রাক্টিস করলেই আরো ভালোভাবে নিয়ম গুলো ব্যবহার করতে পারবো 

This Post Has 2 Comments

  1. Sara

    ভালো কিন্তুু আমার চালান এ সমস্যা আছে😑

  2. Rafsan

    What about, ভ্যাট সংক্রান্ত জাবেদা? You should update it & add ভ্যাট সংক্রান্ত জাবেদা।

Leave a Reply