সূচনা
আমরা যারা হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী তাদের বিভিন্ন অংক সমাধান করার জন্য ভ্যাটের পরিমাণ বের করতে হয়। সেখানে মাঝে মাঝে ×১৫% করতে হয় আবার মাঝে মাঝে ×\( \frac{১৫}{১১৫} \) করতে হয়। যাদের বুঝতে সমস্যা হয় যে কোন সময় কোনটি করতে হবে তাদের জন্য এই পোস্ট ।
মূল বিষয়
আমাদের দেখতে হবে ভ্যাট কি উল্লেখিত টাকার ভিতরে আছে নাকি বহিরে আছে।
যদি, ভ্যাট ভিতরে থাকে তবে ×\( \frac{১৫}{১১৫} \) হবে।
কিন্তু , ভ্যাট বহিরে থাকলে ×১৫% হবে।
যেমন: ভ্যাটসহ পন্যক্রয় ১১১৫ টাকা। এখানে ভ্যাট সহ বলছে, মানে ভ্যাট উল্লেখিত ১১১৫ টাকার ভিতর ই আছে। অথ্যাৎ এখানে মোট ১১৫% টাকা রয়েছে । ১৫% ভ্যাট + ১০০% ক্রয়। তাই এখানে –
**ক্রয় ভ্যাটের পরিমাণ হবে (১১১৫ × \( \frac{১৫}{১১৫} \) ) = ১১৫ টাকা [১৫% ভ্যাট]
** ক্রয়ের পরিমাণ (১১১৫ × \( \frac{১০০}{১১৫} \) )= ১০০০ টাকা। [ ১০০% ক্রয়]
আবার, ৫০০০ টাকা পণ্য বিক্রয় ,ভ্যাট চার্জ ১৫%। এখানে ভ্যাট ৫০০০ টাকার ভিতর নেই বরং ৫০০০ টাকার উপর ধরতে হবে। অথ্যাৎ-
**বিক্রয় ভ্যাট (৫০০০×১৫%) =৭৫০ টাকা
**বিকয় = ১৫০০০ টাকা
কিছু লেনদেন থেকে ভ্যাট নির্ণয়
১) পণ্য ক্রয় করে ৪০,০০০ টাকা প্রদান । [ ভ্যাট ১৫%]
ক্রয় ভ্যাট (৪০,০০০ × \( \frac{১৫}{১১৫} \) ) = ৫,২১৭ টাকা [ হিসাব বিজ্ঞানে দশমিক এর পর গণনা না করাই ভালো]
ব্যাখ্যা: এখানে বলা হয়েছে ক্রয় করে ৪০,০০০ টাকা প্রদান মানে এর বাইরে টাকা দিবে না মানে ভ্যাট ৪০,০০০ টাকার ভিতরই আছে।
২) ১৫% ভ্যাটে পণ্য বিক্রয় ২০০০ টাকা।
বিক্রয় ভ্যাট ( ২০০০×১৫%) = ৩০০ টাকা।
ব্যাখ্যা: এখানে বলা হয়েছে বিক্রয় ২০০০ টাকা মানে ভ্যাট এর বাইরে রয়েছে তাই ( ২০০০×১৫%) হবে। যদি বলতো বিক্রয় বাবদ ২০০০ টাকা প্রাপ্তি তাহলে ভ্যাট ২০০০ এর ভিতর থাকতো এবং × \( \frac{১৫}{১১৫} \) হতো।
৩) ১৫% ভ্যাটসহ ক্রয় ৯২,০০০ টাকা।
ক্রয় ভ্যাট (৯২,০০০ × \( \frac{১৫}{১১৫} \) )= ১২,০০০ টাকা।
ব্যাখ্যা: ভাটসহ বলছে মানে ভ্যাট ৯২,০০০ টাকার ভিতরই আছে।
৪) পন্য ক্রয় ৩০,০০০ টাকা ভ্যাট চার্জ ১৫%
ক্রয় ভ্যাট (৩০,০০০×১৫%)= ৪,৫০০ টাকা।
ব্যাখ্যা: ভ্যাট ৩০,০০০ টাকার উপর মানে বাইরে আছে।
৫) আসবাপত্র ক্রয় ২০,০০০ টাকা ভ্যাট প্রদান ১৫%।
ভ্যাটের পরিমাণ= ০ টাকা
আসবাপত্র ( ২০,০০০+(২০,০০০×১৫%)= ২৩,০০০ টাকা।
ব্যাখ্যা : ব্যবহার করা হয় এমন জিনিস বা সম্পত্তির ওপর ভ্যাট ধার্য হয় না । ভ্যাটের টাকা ঐ জিনিসের সাথে যোগ হবে।
