১ নং প্রশ্নের উত্তর -ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

১) ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখে তনু ট্রেডার্সে-এর হিসাবের বই থেকে নিম্নোক্ত রেওয়ামিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

তনু ট্রেডার্সে-এর রেওয়ামিল

৩১ ডিসেম্বর , ২০১৭

হিসাবের নাম
ডেবিট টাকা
হিসাবের নাম
ক্রেডিট টাকা
মজুদ পণ্য (১-১-২০১৭)
আসবাবপত্র
ব্যাংক হিসাবের উদ্বৃত্ত
নগদ তহবিল
ক্রয়
প্রাপ্য হিসাব
ক্রয় পরিবহন
মজুরি
বিক্রয় বাট্টা
বেতন
বাট্টা প্রদান
ভাড়া
৫০,০০০
৪০,০০০
২৪,০০০
৩৬,০০০
৩,৭০,০০০
৮৫,০০০
৪,৪০০
৫,০০০
২০,০০০
৫১,০০০
৪,০০০
২৫,৬০০
তনুর মূলধন
বিক্রয়
প্রদেয় হিসাব
বাট্টা প্রাপ্তি
৬% ঋণ (১-১-১৭)
ক্রয় বাট্টা
১,০৫,০০০
৫,২০,০০০
২৯,০০০
১,০০০
৪০,০০০
২০,০০০
৭,১৫,০০০
৭,১৫,০০০

সমন্বয় সমূহ: (১) সমাপনি মজুদপণ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে ৪৫,০০০ টাকা; (২)ভাড়া অগ্রিম প্রদান করা হয়েছে ৫,৬০০ টাকা; (৩)বকেয়া বয়েছে: বেতন ৭,০০০ ও মজুরি ৯,০০০ টাকা; (৪) আসবাবপত্রের উপর ১০% অবচয় ধার্য কর; (৫)অনাদয়ী পাওনা সঞ্চিতি ৫% সৃষ্টি করতে হবে।

ক. প্রত্যক্ষ ব্যয়ের পরিমান নির্ণয় কর।

খ.মোট পরিচালন ব্যয় নির্ণয় কর।

গ. ‍নিট আয় ৩৪,৯৫০ টাকা ধরে বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার বিবরণী উপস্থাপন কর।

[ ঢা.বো. , য.বো. , সি.বো. , দি. বো ২০১৮]

সমাধান- ক. প্রত্যক্ষ ব্যয়ের পরিমান নির্ণয় কর।

প্রতক্ষ ব্যয়ের পরিমান নির্ণয় ঢাকা ২০১৮

নির্দেশনা:-  

** আর্থিক বিবরনি করার আগে অবশ্যই সমন্বয় সমুহ ভালো করে পড়ে নিতে হবে। অগ্রিম ও বকেয়া সমূহ চিহ্নিত করতে হবে।

১. প্রত্যক্ষ ব্যয় বললে সম্পূর্ণ বিক্রিত পণ্যের ব্যয় বের করতে হবে। কেউ কেউ ক্রয় মজুদপণ্য বাদে অন্য সকল প্রত্যক্ষ ব্যয় ( যেমন :  মজুরি ,ডকচার্জ, ক্রয় পরিবহন) দিয়ে প্রতক্ষ ব্যয় বের করে যা ভুল পদ্ধতি। বিক্রিত পন্যের ব্যয় = প্রারম্ভিক মজুদ + নিট ক্রয়+ অন্যান্য প্রতক্ষ খরচ – সমাপনি মজুদ ।

২. প্রথমে ৫০,০০০ প্রারম্ভিক মজুদ পণ্য নিতে হবে। এর পর নিট ক্রয় বের করতে হবে মানে ক্রয় থেকে যা যোগ বিয়োগ করার করতে হরব।

৩. এরপর প্রতক্ষ খরচ নিতে হবে অথ্যাৎ যে খরচ ক্রয় অথবা উৎপাদনে হয়। এখানে রয়েছে ক্রয় পরিবহন ও মজুরি। মজুরিতে বকেয়া আছে যা মজুরির সাথে যোগ হয়েছে। (অগ্রিম হলে বিয়োগ, বকেয়া থাকলে যোগ)

৪. এরপর সমাপনী মজুদপণ্য বিয়োগ করলেই অংক শেষ।

সমাধান- খ. মোট পরিচালন ব্যয় নির্ণয় কর।

নির্দেশনা:- 

**পরিচালন ব্যয় হলো ঐ সকল ব্যয় যা বিক্রয় এবং ব্যবসায় পরিচালনা করতে প্রয়োজন হয়। 

১. এখানে এমন ব্যয় রয়েছে – বেতন , বাট্টা প্রদান , ভাড়া । কোন কিছুর অগ্রিম থাকলে তা থেকে বিয়োগ এবং বকেয়া থাকলে যোগ করতে হবে।

২. এছাড়াও সমন্বয়ে  দুটি পরিচালন  ব্যয় রয়েছে – ১) আসবাবপত্রের অবচয় যা আসবাবপত্রের ১০% । এবং কুঋণ বা অনাদায়ি পাওনা সঞ্চিতি যা দেনাদারের ৫% ।

 

সমাধান- গ. নিট আয় ৩৪,৯৫০ টাকা ধরে বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার বিবরণী উপস্থাপন কর।

নির্দেশনা:-  আর্থিক বিবরণীতে আমদের দেখাতে হবে মোট সম্পদ = মোট দায় + মালিকানাস্বত্ত্ব।

১. প্রথমে আমাদের সম্পদগুলো হিসাবভুক্ত করতে হবে। সম্পদ  ৪ শ্রেণির হয়।

চলতি সম্পদ: প্রশ্ন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আমরা যে চলতি সম্পদ পাই তা হলো ব্যাংক , নগদ তহবিল, প্রাপ্য হিসাব( অনাদয়ি পাওনা সঞ্চিতি হলো প্রাপ্য হিসাব কমে তাই বিয়োগ করতে হয়)।  এছাড়া সমন্বয়ে রয়েছে সমাপনী মজুদ পণ্য , অগ্রিম ভাড়া( ব্যয় অগ্রিম হলে চলতি সম্পদ হয়)।

দীর্ঘমেয়াদী  বিনিয়োগ: এখানে কোন দীর্ঘমেয়াদী  বিনিয়োগ নেই। ( যেমন: বিনিয়োগ, প্রদত্ত ঋণ ,সঞ্চয়পত্র)।

স্থায়ী সম্পদ: এখানে রয়েছে আসবাবপত্র যা থেকে অবচয় বিয়োগ করতে হবে।

অলিক সম্পদ: নেই। (যেমন: বিলম্বিত বিজ্ঞাপন, অগ্রিম খরচ, অবলেখকের কমিশন।)

তারপর সকল সম্পদ যোগ করে মোট সম্পদ বের করতে হবে।

এরপর দায় বের করতে হবে। দায় দুই শ্রেণির হয়।

চলতি দায়: প্রদেয় হিসাব, বকেয়া ঋণের সুদ( ঋণে % থাকলে বুঝতে হবে সুদ রয়েছে এবং রেওয়ামিলে কোন সুদ উল্লেখ নেউ মানে বকেয়া আছে। ঋণের বকেয়া সুদ আমদের দিতে হবে তাই এটি চলতি দায়। এছাড়া সমন্বয়ে বয়েছে বকেয়া মজুরি , বকেয়া বেতন( বকেয়া ব্যয়= চলতি দায়।

*ঋণে তারিখ রয়েছে জানুয়ারী ১,২০১৭ এবং অংক ২০১৭ ডিসেম্বরে তাই ঋণের সুদ ১২ মাসের হবে। ঋণের টাকাকে % করলেই ১২ মাসের সুদ বের হয়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদী দায়: ঋণ ( সম্পূণ টাকা)

মালিকানাস্বত্ত্ব: মূলধনের সাথে নিট আয় যোগ করলেই হবে।( এছাড়াও উত্তোলন থাকলে বিয়োগ করতে হতো এবং সাধারন সঞ্চিতি যোগ।)

দায় ও মালিকানাস্বত্ত্ব যোগ করলে মোট সম্পদের সাথে মিলে যায় । অথাৎ অংক খতম।

উক্ত বোর্ডের সবগুলো সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান এখানে:  ঢাকা বোর্ড ২০১৮ হিসাববিজ্ঞান প্রথম প্রত্র সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান-HSC