নগদান বহি, খতিয়ান ( সাবিনা অ্যান্ড সন্স) – ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং-৪ সমাধান
৪ নং প্রশ্নের উত্তর - ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
৪) নিম্নলিখিত লেনেদেনগুলো ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সাবিনা অ্যান্ড সন্স-এর ব্যবসায় হতে নেওয়া হয়েছে:
এপ্রিল -০১ : প্রারম্ভিক নগদ তহবিল ও ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত যথাক্রমে ২০,০০০ টাকা ও ৮০,০০০ টাকা।
এপ্রিল -০৫ : নগদে পণ্য ক্রয় ৪,০০০ টাকা এবং নগদে পণ্য বিক্রয় ১২,০০০ টাকা।
এপ্রিল -০৭ : আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে ২০,০০০ টাকা। এর মূল্য বাবদ নগদে ১০,০০০ টাকা অবশিষ্ট ১০,০০০ টাকা চেক মারফত প্রদত্ত হলো।
এপ্রিল -০৮ : ধারে বিক্রয় ৫,০০০ টাকা।
এপ্রিল -১০ : বেতন ৮,৮০০ টাকা নগদে এবং বিমা সেলামি ২,৪০০ টাকা চেকের মাধমে পরিশোধ করা হলো।
এপ্রিল -১৩ : মকলেস ট্রেডার্স-এর নিকট হতে ১৬,০০০ টাকা নগদে পাওয়া গেলো।
এপ্রিল -১৫ : ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক হতে উত্তোলন ১২,০০০ টাকা।
এপ্রিল -১৮ : পুরাতন আসবাবপত্র বিক্রয় করে ৬,০০০ টাকা পাওয়া গেলো।
এপ্রিল -২১ : ব্যাংকে ৪,৮০০ টাকা জমা দেওয়া হলো।
এপ্রিল -২৪ : জীবন বিমার প্রিমিয়াম প্রদান ৯,০০০ টাকা।
এপ্রিল -২৫ : নিপা এন্ড সন্সের নিকট হতে ২,৮০০ টাকার একখানা চেক প্রাপ্ত হয়ে তখনই চেকখানি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলো।
এপ্রিল -২৮ : অফিসের প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ২,৮০০ টাকা উত্তোলন ।
এপ্রিল -৩০ : ব্যাংক উদ্বৃত্তের টাকা নগদে উত্তোলন করা হয়েছে।
ক. ব্যাংক হতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ কত? ( ৩০ এপ্রিল বাদে)
খ. একখানি দু’ঘরা নগদান বহি তৈরি কর।
গ.বিক্রয় হিসাব ও উত্তোলন হিসাব তৈরি কর।
[ ঢা.বো. , য.বো. , সি.বো. , দি. বো ২০১৮]
সমাধান- ক. ব্যাংক হতে মোট উত্তোলনের পরিমাণ কত?

নির্দেশনা:- পরিমাণ চাইলেই ছক হবে –
তারিখ—-বিবরণ—-টাকা—-টাকা
এখানে ব্যাংক হতে উত্তোলনের পরিমান চেয়েছে । সবগুলো লেনদেন থেকে আমরা দেখতে পাই এপ্রিল ১৫, ২৮ ও ৩০ তারিখে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন হয়েছে । প্রশ্নে ৩০ তারিখ বাদে করতে বলা হয়েছে তাই ১৫ ও ২৮ তারিখ যোগ করলেই অংকটি সমাধান হয়ে যাবে। [ এমনিতেও ৩০ তারিখের টাকা নগদান বহি করা ছাড়া বের করা অতি কষ্টকর হবে, তাই প্রশ্নে ৩০ তারিখ বাদে করতে বলা হয়েছে।]
সমাধান- খ. একখানি দু’ঘরা নগদান বহি তৈরি কর।

নির্দেশনা:- দুঘরা নগদান বহি অথ্যাৎ আমাদের নগদান হিসাব ও ব্যাংক হিসাব বের করতে হবে। প্রথমে দুঘরা নগদান বহির ছক কাটতে হবে। টাকা আসলে ডেবিট দিকে এবং টাকা চলে গেলে ক্রেডিট দিকে লিখতে হবে ।
এপ্রিল-১: উদ্বৃত্ত অথ্যাৎ আগের বছর শেষে এই টাকা জমা আছে। তাই নগদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স বি/ডি শিরোনামে ডেবিট পাশে লিখতে হবে। (এগুলো মালিক দিলে মূলধন হিসাব নামে যেত। মালিক দিলে মূলধন হিসাব , জমা থাকলে ব্যালেন্স বি/ডি)।
এপ্রিল-২: ক্রয় করলে নগদ টাকা কমে তাই ক্রেডিট দিকে নগদের ঘরে এবং বিক্রয় করলে নগদ টাকা বাড়ে তাই ডেবিট দিকে নগদের ঘরে হবে।
এপ্রিল- ৭ : আসবাবপত্র ক্রয় করলে টাকা কমে তাই ক্রেডিট দিকে হবে। নগদ ১০,০০০ নগদের ঘরে এবং চেকে ১০,০০০ ব্যাংকের ঘরে।
এপ্রিল-৮: যবে না। কারণ ধারে হয়েছে নগদ টাকা বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় নি।
এপ্রিল-১০: বেতন ও বিমা সেলামি পরিশোধ করলে টাকা কমে তাই ক্রেডিট দিকে হবে। বেতন নগদে তাই নগদের ঘরে বিমা চেকে তাই ব্যাংকের ঘরে হবে।
এপ্রিল-১৩ : মকলেসের নিকট থেকে টাকা পাওয়া গেলো মানে নগদ টাকা বাড়লো তাই ডেবিট দিকে।
এপ্রিল-১৫: ব্যাংক হতে উত্তোল করলে ব্যাংকের টাকা কমে তাই ক্রেডিট দিকে হবে। মালিক নিয়েছে তাই উত্তোলন হিসাব হবে।
এপ্রিল-২১: ক্যাশের টাকা ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংকের টাকা বাড়ে এবং নগদ টাকা কমে। অথ্যাৎ ডেবিট দিকে নগদান শিরোনামে ব্যাংকের টাকা বাড়াতে হবে। এবং ক্রেডিট পাশে ব্যাংক শিরোনামে নগদের টাকা কমাতে হবে। (কন্ট্রা এন্ট্রি )।
এপ্রিল-২৪: জিবন বিমা প্রিমিয়াম প্রদান করলে নগদ টাকা কমে তাই ক্রেডিট দিকে নগদের ঘরে হবে। জিবন বিমা প্রিমিয়াম ও আয়কর হলো মালিকের খরচ । আথ্যাৎ মালিক টাকা নিলো। মালিক ব্যবসায় হতে কিছু নিলে উত্তোলন হিসাব হয়।
এপ্রিল-২৫: চেক পেয়ে ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাকের টাকা বাড়ে তাই ডেবিট দিকে ব্যংকের ঘরে হবে।
এপ্রিল-২৮: অফিসের প্রয়োজনে ব্যাংক উত্তোলন করা মানে হলো ব্যাংকের টাকা উঠিয়ে ক্যাশে রাখা। অথ্যাৎ নগদ টাকা বাড়ে এবং ব্যাংকের টাকা কমে। তাই ডেবিট দিকে ব্যাংক নামে নগদ টাকা বাড়াতে হবে এবং নগদ নামে ক্রেডিট দিকে ব্যাংকের টাকা কমাতে হবে।
এপ্রিল-৩০: ব্যাংকের সব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে । সব টাকা উঠাতে হলে আগে আমাদের জানতে হবে ব্যাংকে কত টাকা আছে । ব্যাংকে টাকর পরিমাণ = ( ব্যাংকের ডেবিট পাশের যোগফল – ব্যাংকের ক্রেডিট পাশের যোগফল)= ( ৮৭,৬০০-২৭,৬০০) = ৬০,০০০ টাকা। অথ্যাৎ ৬০,০০০ টাকা ব্যাংক হতে উত্তোলন।অথ্যাৎ নগদ টাকা বাড়ে এবং ব্যাংকের টাকা কমে। তাই ডেবিট দিকে ব্যাংক নামে নগদ টাকা বাড়াতে হবে এবং নগদ নামে ক্রেডিট দিকে ব্যাংকের টাকা কমাতে হবে।
সমাধান- গ. বিক্রয় হিসাব ও উত্তোলন হিসাব তৈরি কর।

নির্দেশনা:- যেকোন হিসাব তৈরী করতে বললে আমাদের খতিয়ান করতে হবে। পদ্ধতি উল্লেখ না থাকলে আমরা T ছক বা জের ছক যেকোন পদ্ধতিতে করতে পারি। তবে পদ্ধতি উল্লেখ না থাকলে জের ছকে করাই উত্তম।
বিক্রয় হিসাব:- বিক্রয় হিসাব বের করতে আমাদে প্রথমে বিক্রয় সংক্রান্ত লেনদেন খুজতে হবে যেখানে বিক্রয় হিসাব রয়েছে। এখানে এমন এমন দুটি লেনদেন রয়েছে। এপ্রিল-৫ ও ৮ । এপ্রিল ১৮ যাবে না কারণ আসবাপত্র (সম্পদ) বিক্রয় করলে বিক্রয় হিসাব হয় না ।
এপ্রিল-৫ : নগদে বিক্রয় করলে নগদ টাকা বাড়ে তাই নগদান হিসাব ডেবিট, বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট। তাই বিক্রয় হিসাব করতে হলে বিক্রয়ের বিপরিত নগদান হিসাব লিখে ক্রেডিট ঘরে টাকা দিতে হবে। কারন বিক্রয় ক্রেডিট।
এপ্রিল-৮ : বিক্রয় আয় তাই বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট এবং বিক্রয়ের মাধ্যম ধারে মানে প্রাপ্য ডেবিট হবে। তাহলে বিপরিত হিসাব প্রাপ্য লিখে ক্রেডিট ঘরে টাকা দিতে হবে। কারণ বিক্রয় ক্রেডিট। জের পূর্বে ক্রেডিট ছিলো আবার ক্রেডিট হলো মানে যোগ হবে।
উত্তোলন হিসাব:- মালিক কিছু নিলে উত্তোলন হিসাব হয়। আমাদের এমন সকল লেনদেন খুজতে হবে যেখানে উত্তোলন হিসাব রয়েছে।যেমন: এপ্রিল ১৫ ও ২৪ । এপ্রিল ২৮ ও ৩০ যাবে না কারণ এই টাকা মালিক নিবে না । ব্যাংক থেকে উত্তোলক করে ক্যশবাক্সে রাখা হবে।
এপ্রিল-১৫: ব্যাংক থেকে ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে উত্তোলন মানে টাকা মালিক নিয়েছে। মালিক কিছু নিলে উত্তোলন হিসাব ডেবিট , যা নিয়েছে (ব্যাংকের টাকা) মানে ব্যাং হিসাব ক্রেডিট। উত্তোলন ডেবিট তাই বিপরিত হিসাব ব্যাংক লিখে ডেবিট দিকে টাকা লিখতে হবে।
এপ্রিল-২৪: জীবন বিমা প্রিমিয়াম মালিকের খরচ যা ব্যবসায় হতে দেওয়া হয়েছে মালিক টাকা নিলো। মালিক কিছু নিলে উত্তোলন হিসাব ডেবিট এবং যা নিয়েছে মানে নগদান হিসাব ক্রেডিট। তাহলে নগদান হিসাব লিখে টাকা ডেবিট করতে হবে কারণ উত্তোলন ডেবিট। জের আগে ডেবিট ১২,০০০ ছিলো আবার ৯,০০০ ডেবিট হলো মানে যোগ হয়ে ২১,০০০ হবে।
এই বোর্ডের সকল প্রশ্ন একসাথে : ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ হিসাববিজ্ঞান প্রথম প্রত্র সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান-HSC
[ কোন ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে বা মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ]
Related Posts
আব্দুস সবুর ( একতরফা দাখিলা ) – ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং ১১ সমাধান
Exam: HSC
Subject: Accountig First Paper
Board: Dhaka, Dinajpur, Jashore, Sylhet
Year: 2018
Chapter: একতরফা দাখিলা পদ্ধতি
প্রিয়ন্তি রহমান ( অবচয় )- ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং ৯
Exam: HSC
Subject: Accountig First Paper
Board: Dhaka, Dinajpur, Jashore, Sylhet
Year: 2018
Chapter: অবচয়
তিশা সার্ভিসিং ( কার্যপত্র ) – ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং ১০ সমাধান
Exam: HSC
Subject: Accountig First Paper
Board: Dhaka, Dinajpur, Jashore
Year: 2018
Chapter: কার্যপত্র
ক্রয় জাবেদা, খতিয়ান (লিপি অ্যান্ড কোং ) – ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং-৫ সমাধান
Exam: HSC
Subject: Accountig First Paper
Board: Dhaka, Dinajpur, Jashore, Sylhet
Year: 2018
Chapter: জাবেদা , খতিয়ান
জাবেদা , হিসাব – ঢাকা , যশোর , সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮ প্রশ্ন নং-৩ সমাধান
Exam: HSC
Subject: Accountig First Paper
Board: Dhaka, Dinajpur, Jashore, Sylhet
Year: 2018
Chapter: জাবেদা , খতিয়ান